শাবান মাসের ১৪ তারিখ। সন্ধার পরে ১৫ তারিখ হয়ে যাবে। এ মাসের ১৫ তারিখকে শরয়ী পরিভাষায় বলা হয় " লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান " অর্থাৎ যা আমাদের দেশে " শবে বরাত " নামে প্রসিদ্ধ। শাবানের ১৫ তারিখ খুবই ফজিলতপূর্ণ একটি রজনী। এর ফজিলত প্রমাণিত। তদ্রুপ এরই সঙ্গে সঙ্গে বেশকিছু মনগড়া আমল এবং নামাজ পড়ার অভিনব পদ্ধতি সমাজে প্রচলিত।
সংক্ষেপে :
শবে বরাতে যা করণীয় :
(১) খুব বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া।
(২) অবশ্যই নফল নামাজ একাকী পড়া।
(৩) নিজ বাড়িতে এবাদাত করা।
(৪) কুরআন তেলাওয়াত করা বেশি বেশি।
(৫) রোনাজারি কান্নাকাটি করে মাগফিরাত কামনা করা
(৬) সাধ্যমত দান সদক্বাহ করা।
(৭) সম্ভব হলে ব্যক্তিগতভাবে কবর যিয়ারত করা
(৮) কারোর প্রতিতি রাগ থাকলে তাকে ক্ষমা করা।
(৯) পরিবার সহ সমস্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য দোআ করা।
(১০) জীবনের পূর্ববর্তী সমস্ত পাপকাজ থেকে খাসদিলে তওবা করা।
যেসব কাজ বর্জনীয় : মোটেই করবে না।
(১) এরাতে কেউই বিশেষ পন্থায় বিশেষ পদ্ধতিতে কোন নামাজ আদায় করবে না। এ সম্পর্কিত যেসব কথা পাওয়া যায় তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বানোয়াট। সাধারণভাবেই নফল নামাজ আদায় করবে ২ রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব।
(২) এরাতে গোসল করার ব্যাপারে যে ফজিলত বলা হয় তা ভিত্তিহীন।
(৩) এ রাতে দলবদ্ধভাবে কবর যিয়ারতে যাবে না। বরং একাকী।
(৪) নফল ইবাদাত নামাজ সবকিছুই একাকী করবে। দলবদ্ধভাবে নয়। মসজিদেও নয়। বাড়িতেই করার চেষ্টা করবে।
(৫) মিলাদ মাহফিল সহ যা কিছু এরাত কে বিশেষভাবে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয় তা সম্পূর্ণ বর্জন করবে।
(৬) কোন ধরণের হালুয়া রুটি বা এজাতীয় কোন কিছুই করবে না।
শবে বরাতের রোজা:
শবে বরাতের রোযার ব্যাপারে একটি হাদিস পাওয়া যায়। সূত্রের বিবেচনায় যা বেশ যয়ীফ বা দূর্বল। আল্লামা তাক্বি উসমানি হাফিজাহুল্লাহ বলেন:
‘শবে বরাতের পরবর্তী দিনটিতে রোযা রাখ’। সনদ ও বর্ণনার সূত্রের দিক থেকে হাদীসটি দুর্বল। তাই এ দিনের রোযাকে এই একটি মাত্র দুর্বল হাদীসের দিকে তাকিয়ে সুন্নত বা মুস্তাহাব বলে দেওয়া অনেক আলেমের দৃষ্টিতেই অনুচিত। শুধু ১৫ শাবানের কারণে এ রোযাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে সুন্নত বলে দেওয়া অনেক আলেমের মতেই সঠিক নয়। আর সে কারণেই অধিকাংশ ফুকাহায়ে কেরাম মুস্তাহাব রোযার তালিকায় মুহাররমের ১০ তারিখ ও ইয়াওমে আরাফা (যিলহজ্জের ৯ তারিখ) এর কথা উল্লেখ করেছেন। অথচ শাবানের ১৫ তারিখের কথা পৃথকভাবে কেউই উল্লেখ করেননি। বরং তারা বলেছেন, শাবানের যেকোনো দিনই রোযা রাখা উত্তম। সুতরাং এ সকল বিষয়ের দিকে দৃষ্টি রেখে যদি কেউ রোযা রাখে, ইনশাআল্লাহ সে সওয়াব পাবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, রোযা রাখার ব্যাপারে এ মাসের নির্দিষ্ট কোনো দিনের পৃথক কোনো বৈশিষ্ট্য নেই।’ ―ইসলাহী খুতুবাত ৪/২৬৭-২৬৮
মোটকথা: নিদৃষ্টভাবে শাবানের ১৫ তারিখের শবে বরাতের রোজা হিসেবে যেই রোযা রাখার প্রচলন, তা পরিহারযোগ্য। বরং শাবানের যে কোন দিনই রোযা রাখা উত্তম সেই হিসেবে কেউ যদি আগামিকাল রোযা রাখতে চায়, তাহলে সে রাখতে পারবে, পরের কোন দিনেও রাখতে পারবে। কিন্তু শুধুমাত্র এই দিনকেই টার্গেট করেই রোযা রাখাটা অনুচিত কাজ। যেমনটা উপরে আল্লামা তাক্বি উসমানি সাহেব হাফিজাহুল্লাহর উদ্ধৃতি দেয়া হলো।
বেশি কুরআন তেলাওয়াত করুন, যিকির, তাসবিহ, দান সদকা বেশি বেশি করুন।


