

প্রশ্ন-উত্তর
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ আমি একটি অনৈসলামিক কুফরী রাষ্ট্রে টেক্স দিয়ে বসবাসকারী ব্যাক্তি। আমার বসবাসের বিধান কি এবং ঐ রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদানকৃত আমার সুবিধাভোগের বিধান কি?
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। বহির্বিশ্বের তথাকথিত ইসলামি দেশগুলোতে নির্ভরযোগ্য তথ্যানুযায়ী শরীয়াহর আইন পুরোপুরি বাস্তবায়িত নয়। সেখানেও সেক্যুলার ধারা জারি। কিছু কিছু নিয়ম হয়ত শরয়ী ধারার। কিন্তু মুলগত বিবেচনায় সেখানে শরয়ী আইন জারি নাই। সেগুলোও হুকুমের বিচারে দারুল কুফর বলেই বিবেচিত। তবে কুফরের পরিধি সেখানে কম। দারুল কুফরের আরেকটি পরিভাষা হচ্ছে দারুল মুআহাদা বা দারুল আমান। অর্থাৎ যেখানে দ্বীন পালন করা যায় মৌলিকভাবে, তেমন বাধাগ্রস্থ হতে হয় না। এসব দেশ দারুল কুফরের এই দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশও দারুল কুফরের দ্বিতীয় প্রকার। আর যেসব দেশে দ্বীন পালন প্রায় অসম্ভব, রাষ্ট্রীয়ভাবে শতভাগ কুফরি আইন জারি যেমন ইজরায়েল, আমেরিকা, ইংল্যান্ড: সেসব দেশ হচ্ছে মুল দারুল কুফর। এমন দেশে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ নাই। কাফির রাষ্ট্রে যাওয়ার বিধান বেশ বিস্তারিত। সংক্ষেপে বলি। (১) দ্বীন প্রচারের নিয়তে যাওয়া জায়েজ। (২) জীবিকা নির্বাহ নিজ দেশে কঠিন হয়ে পড়লে অস্থায়ীভাবে কাফির রাষ্ট্রে যাওয়া জায়েজ। (৩)পড়াশোনার জন্য যাওয়া জায়েজ, শর্ত হলো ঐ সাবজেক্টের সুন্দর অনুশীলন বা পড়ার কোন সুব্যবস্থা নিজ দেশে না থাকা। (৪) অস্থায়ীভাবে থাকার নিয়তে যাওয়া। তবে বিদেশ গেলে তিনটি শর্ত জরুরী। (১) নিজের ঈমান সংশয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারবে না। (২) নিজের প্রবৃত্তিকে কন্ট্রোল করতে পারা, পাশ্চাত্যের সঙ্গে নিজেকে না মিলিয়ে ফেলা। (৩) হক্ব বাতিলের মধ্যে পার্থক্য নিরুপণকারী জ্ঞান বিদ্যমান থাকা, যাতে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি ঐ সমস্ত মুসলিমদের দায়ভার বহন করবো না যারা মুশরিকদের মাঝে থাকে।” [আবু দাউদ: ২৬৪৫, তিরমিযী: ১৬০৪
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম একটু তাড়াতাড়ি উত্তরটা দিলে উপকৃত হতাম... কোনো পণ্যের উপর সরকারী দাম দেওয়া থাকলে ওই পণ্য যদি সরকারী দাম এর চেয়েও বাড়তি বিক্রি করা নাকি জুলুম,এখন প্রশ্ন হচ্ছে ওই পণ্যের পাইকারী দাম সরকারি যে দাম দেওয়া আছে তার সমান এবং সামনে তার চেয়ে বাড়তিও হতে পারে এমন অবস্থায় ওই পণ্য কি অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে কি আমার ইনকাম কি হারাম হবে.? সামান্য কিছু লাভ করলেও আমার হবে নাহ কারণ দোকান ভাড়া সহ বিভিন্ন খরচ আছে, কমপক্ষে ১০০-১৫০ টাকা বাড়তি বিক্রি করতে হবে।
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম কোন প্রোডাক্টের উপর একজন বিক্রেতা কেমন লাভ করবে কত পারসেন্ট লাভ করবে: শরীয়ত এ ব্যাপারটাকে নির্দিষ্ট করে দেয় নাই। কারণ ক্রয়-বিক্রয় লেনদেন এগুলো মানুষের নিজেদের প্রোডাক্টের গুণগতমান এবং সামর্থের উপর নির্ভর করে। তাই মিথ্যা না বলে প্রতারণা না করে একটা প্রোডাক্টের উপর একজন মানুষ যথা সম্ভব লাভ করতে পারবে। তবে হ্যাঁ: কোন ব্যক্তি যদি কোন প্রোডাক্টের মূল্য এত বেশি ধরে, যেটা স্বাভাবিক বাজার মূল্য থেকে এতটাই বেশি যেটা মানুষের সাধ্যের বাহিরে, অথবা প্রোডাক্টের বডি রেটের চাইতে অনেক গুণ বেশি বাড়িয়ে ধরে: তাহলে শরীয়াতে এটাকে জুলুম বলে বিবেচনা করা হবে। তবে হ্যাঁ এই অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে বলার ক্ষেত্রে যদি সে মিথ্যা না বলে, তাহলে তার উপার্জন বৈধ হবে, তবে এমন কাজ নাজায়েজ হবে জুলুম হবে এবং সে কারণে গুনাহগার হবে হ্যাঁ সামান্য কিছু টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করলে সেটা হারাম হবে না। যেমন একটা প্রোডাক্ট এর স্বাভাবিক বাজার মূল্য ৫০০ টাকা, কোন ব্যক্তি যদি সেটাকে ৬০০ টাকা দামে বিক্রি করে তাহলেও সেটা বৈধ হবে। কিন্তু সেটাকে যদি কোন ব্যক্তি ১০০০ টাকায় বিক্রি করে পাশাপাশি মিথ্যা বলে: তাহলে মিথ্যা বলার কবিরা গুনাহ হবে, এবং ন্যায্য মূল্যের অতিরিক্ত টাকা তার জন্য বৈধ হবে না। তবে অনেক সময় সরকার যে রেট বেঁধে দেয়: কখনো কখনো মালামাল ইমপোর্ট করা, পাইকারি দরে ক্রয় করে এনে সেটা প্রফিট করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চাইতে বাড়িয়ে বলা যাবে। مبسوطِ سرخسی میں ہے: "فالبيع ما شرع إلا لطلب الربح والفضل فالفضل الذي يقابله العوض حلال ككسبه بالبيع." (كتاب البيوع، أنواع الربا، 119/12،ط: دارالمعرفة) الفقہ علی المذاہب الاربعہ میں ہے: "الحنفية - قالوا: الغبن الفاحش هو ما لا يدخل تحت تقويم المقومين، كما إذا اشترى سلعة بعشرة فقومها بعض أهل الخبرة بخمسة، وبعضهم بستة، وبعضهم بسبعة، ولم يقل أحد إنها بعشرة فالثمن الذي اشتريت به لم يدخل تحت تقويم أحد." (كتاب أحكام البيع وما يتعلق به، مبحث البيع بالغبن الفاحش،256/2، ط: دارالکتب العلمیة)
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ বর্তমান কত টাকায় নেসাব?? টাকা+ স্বর্ণ দুইটা মিলিয়ে মোট কত টাকা সমমান হলে জাকাত দিতে হবে?
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম নিসাব একটি ইসলামি পরিভাষা। এর অর্থ হলো- শরিয়ত নির্ধারিত নিন্মতম সীমা বা পরিমাণ। নিসাব পরিমাণ সম্পদ বলতে বুঝায়- ন্যূনতম যে পরিমাণ সম্পদ একবছর জমে থাকলে জাকাত ফরজ হয়। সোনা ও রুপা হলো নিসাবের মাপকাঠি। স্বর্ণের নিসাব হলো ৭.৫ তোলা বা ৯৫.৭৪৮ গ্রাম (প্রায়) আর রুপার নিসাব ৫২.৫ তোলা বা ৬৭০.২৪ গ্রাম (প্রায়)। কারো কাছে যদি শুধু রুপা থাকে এবং যদি রুপার নেসাব পূর্ণ না হয়, তাহলে তার ওপর জাকাত আবশ্যক হবে না। একইভাবে কারো কাছে শুধু স্বর্ণ থাকলে স্বর্ণের নিসাব পূর্ণ হলেই জাকাত ফরজ হবে। অনুরূপভাবে কারোর কাছে নেসাব পরিমাণ স্বর্ণও নাই ,নেসাব পরিমাণ রুপাও নাই: কিন্তু যা আছে এ দুটোর বাজার মূল্য সমন্বয় করলে রুপার নেসাবের যেই মূল্য সেই সমপরিমাণ যদি হয়: তাহলে এমন ব্যক্তির উপরেও যাকাত ফরজ হবে। যদি কারো কাছে কিছু স্বর্ণ কিছু রূপা, বা কিছু স্বর্ণ, কিছু টাকা বা ব্যবসার পণ্য থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে যাকাত নির্ধারণের বিধান হলো, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার মূল্য। অর্থাৎ, সেগুলোর সামষ্টিক মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমান হয় এবং বিগত একবছর যাবত সেগুলো বহাল থাকে তাহলে যাকাত দিতে হবে। মোট কথা, সামষ্টিক সম্পদ মিলেও যদি নেসাব হয়ে যায় তাহলে তার যাকাত দিতে হবে। আর যাকাতের পরিমাণ হলো, সকল বস্তুর ক্ষেত্রেই শতকরা ২.৫%। যে ব্যক্তি যেদিন যাকাত দিবে, ঐদিন সাড়ে ৫২ ভরি রুপার মূল্য যেটা হবে; সেই পরিমাণ টাকা নেসাব বলে গণ্য হবে।
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ মাছ মাংস ধোয়ার সময় সেটার লাল পানি যদি কাপড়ে লাগে সে কাপড় কি নাপাক হয়ে যাবে? সে কাপড় পড়ে কি নামাজ পড়া যাবে?
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম মনে রাখতে হবে: গোশত অথবা মাছের গায়ে যে রক্ত থাকে বা মাছের গায়ে যে পানি থাকে, সেটা নাপাক নয়। তাই মাছ ধোয়ার পানি সেটা যদিও লাল হয়, তারপরেও সেটা গায়ে লাগলে কাপড় নাপাক হবে না। খেয়াল রাখতে হবে : রক্ত দুই প্রকারের : ১. প্রবাহিত রক্ত, যা পশুপাখি জবাইয়ের সময় নির্গত হয় কিংবা মানুষ বা জীবিত পশুপাখির শরীরের কোনো অংশ কেটে যাওয়ার কারণে বের হয় এবং তা গড়িয়ে পড়া পরিমাণ হয়। এ প্রকারের রক্ত হারাম ও নাপাক। ২. মানুষ বা পশুপাখির শরীর থেকে নির্গত সামান্য রক্ত, যা গড়িয়ে পড়া পরিমাণ নয় এবং পশুপাখি জবাইয়ের পর এর গোশত ও শিরায় বিদ্যমান রক্ত। এগুলো প্রবাহিত রক্ত নয়। তাই তা হারাম ও নাপাক নয়। আর মাছের রক্ত প্রবাহিত হলেও তা হারাম ও নাপাক নয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে রক্তটি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, নামাযে পবিত্রতার সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাও কাম্য। অতএব প্রশ্নোক্ত পানি নাপাক না হলেও তা যেহেতু ময়লা পানি, তাই যথাসম্ভব তা ধুয়ে পরিষ্কার করে নামায পড়াই ভালো ছিল। وَقَدْ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: لَوْ حُرِّمَ قَلِيلُ الدَّمِ لَتَتَبَّعَ النَّاسُ مَا فِي الْعُرُوقِ، وَلَقَدْ كُنَّا نَطْبُخُ اللَّحْمَ وَالْمَرَقَةُ تَعْلُوهَا الصُّفْرَةُ، وَلِذَلِكَ فُرِّقَ بَيْنَ قَلِيلِ الدَّمِ وَبَيْنَ قَلِيلِ سَائِرِ النَّجَاسَاتِ لأَنَّ قَلِيلَ سَائِرِ النَّجَاسَاتِ حَرَامٌ أَكْلُهَا وَشُرْبُهَا (الجامع الصحيح للسنن والمسانيد، كتاب الطهارة، الباب الخامس الأعيان الطاهرة، الدَّمُ الْبَاقِي فِي العُرُوقِ وَاللَّحْمِ بَعْدَ الذَّبْح-22/399 وإن أصابه من دم السمك أو من لعاب البغل أو الحمار أكثر من قدر الدرهم أجزأت الصلاة فيه أما دم السمك فلأنه ليس بدم على التحقيق فلا يكون نجسا. (الهداية: 1/ 38). (قَوْلُهُ وَدَمُ السَّمَكِ وَلُعَابُ الْبَغْلِ وَالْحِمَارِ وَبَوْلٌ انْتَضَحَ كَرُءُوسِ الْإِبَرِ) أَيْ وَعُفِيَ دَمُ السَّمَكِ وَمَا عُطِفَ عَلَيْهِ، أَمَّا دَمُ السَّمَكِ فَلِأَنَّهُ لَيْسَ بِدَمٍ عَلَى التَّحْقِيقِ، وَإِنَّمَا هُوَ دَمٌ صُورَةً؛ لِأَنَّهُ إذَا يَبِسَ يَبْيَضُّ وَالدَّمُ يَسْوَدُّ وَأَيْضًا الْحَرَارَةُ خَاصِّيَّةُ الدَّمِ وَالْبُرُودَةُ خَاصِّيَّةُ الْمَاءِ فَلَوْ كَانَ لِلسَّمَكِ دَمٌ لَمْ يَدُمْ سُكُونُهُ فِي الْمَاءِ. (البحر الرائق: 1/ 247).
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ ১৩ বছরের একটা বাচ্চার সামনে নামাজ পড়েছি। আমার নামাজ কি হবে?তার সাথে কি পর্দা করতে হবে?
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। সাধারণত বর্তমান পরিবেশ, আবহাওয়ার কারণে ১৩ বছর বয়সে বেশিরভাগ ছেলে বালেগ হয়ে যায়। তাই সতর্কতার দাবী হলো যথাসম্ভব অবশ্যই এজাতীয় ছেলের সামনে পর্দা করবে। শরীয়তের দৃষ্টিকোন থেকে ছেলে বা মেয়ের বালেগ তথা প্রাপ্ত বয়স্ক হবার মূল নিদর্শন বীর্যস্খলন হওয়া। এটার বিভিন্ন আলামত আছে। ছেলে মেয়েদের সেটি স্বপ্নদোষের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে। ছেলেদের দাড়ি গোফ উঠার মাধ্যমে হতে পারে। বালেগ হবার উপরোক্ত আলামতগুলো যদি কোন ছেলে বা মেয়ের মাঝে প্রকাশিত না হয়, তাহলে সন্তানের বয়স পনের বছর হলেই উক্ত ছেলে মেয়ে বালেগ হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। উল্লেখ্য যে: এমন বা প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলের সামনে নামাজ পড়লে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। কারণ নামাজ আদায় হবার জন্য শর্ত হলো নিজের সতর ঠিক রেখে পবিত্র অবস্থায় সহীহ পদ্ধতিতে নামাজ পড়া। তবে সামনে বেগানা পুরুষ থাকার কারণে গোনাহ হবে। দলীলসমূহ : بلوغ الغلام بالاحتلام والجاریة بالاحتلام والحیض فإن لم یوجد فیہما شیئ فحتی یتم لکل منہا خمس عشرة سنة، بہ یفتی۔ (الدالمختار مع الشامی ۹/۲۲۵ زکریا)
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, সম্মানিত শাইখ। আমার সমস্যা হলো—কখনো কখনো প্রসাবের রাস্তা দিয়ে প্রসাব বা বীর্যজাতীয় কিছু বের হয় বলে সন্দেহ হয়। অনেক সময় নিশ্চিত না হয়ে বারবার চেক করি, পরে দেখি সত্যিই কিছু বের হয়েছে। কিন্তু সেটি প্যান্টে লেগেছে কি না, তা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় না। কোনো দৃশ্যমান দাগ বা চিহ্নও পাই না, তবুও মনে হয় হয়তো লেগেছে। এই অবস্থায় যদি আমি নিশ্চিত না হই যে প্যান্টে নাপাকি লেগেছে কিনা, তাহলে কি সেই প্যান্ট পরে নামাজ আদায় করা যাবে? দয়া করে কুরআন-হাদিসের আলোকে আমাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিলে কৃতজ্ঞ থাকব। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। এরকম অবস্থা হতে পারে কখনো কখনো। আবার কখনো কখনো শয়তানের কুমন্ত্রনার কারণে এমন সব চিন্তার জন্ম নেয়। তাই প্রথম কথা হলো: যথা সম্ভব এমন কল্পনা বা ধারণা রাখবে না। সন্দেহহ করবে না। এড়িয়ে যাবে। অগত্যা যদি কখনো প্রবল সন্দেহ হয়, তাহলে কাপড় চেক করবে। বাহ্যিক কোন নাপাকি না পেলে নাপাকি বের হয়ে কাপড়ে লাগেনি বলেই ধরে নেয়া হবে। অর্থাৎ কাপড় পবিত্র আছে বলে গণ্য হবে। অযথা মনের সন্দেহকে স্থান দেয়া যাবে না। দলিলসমূহ: আল আশবাহ: "القاعدة الثالثة: اليقين لا يزول بالشك ....... شك في وجود النجس فالأصل بقاء الطهارة." (الفن الأول:القواعد الكلية، ص:49،47، ط:دار الكتب العلمية) فتاوی شامی میں ہے: "(قوله: ولو شك إلخ) في التتارخانية: من شك في إنائه أو في ثوبه أو بدن أصابته نجاسة أو لا فهو طاهر ما لم يستيقن." (كتاب الطھارة، قبيل فرض الغسل، ج:1، ص:151، ط:سعید)
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ১. আমার স্ত্রীর নিকট তিন ভরির কাছাকাছি স্বর্ণ আছে, আর তার নিকট ৫০০০৳ জমা আছে, আমার শ্বশুর তাকে এই টাকা টা বখশিশ হিসেবে দিয়েছিল, এছাড়া স্ত্রী আবদার করে, তাকে যেন প্রতি মাসে ৫০০/১০০৳ করে জমানোর জন্য দিই, এখন উক্ত স্বর্ণ এবং জমানো অল্প টাকা (৫০০০৳++) যদি এক বছর জমানো থাকে, তাহলে কি তার উপর যাকাত ফরজ হবে? এক্ষেত্রে এই অল্প জমানো টাকার জন্য কি যাকাতের নিসাব সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা হিসাবে ধরতে হবে? ২. আর যদি যাকাত ফরজ হয়ও, সেক্ষেত্রে যাকাত যতটুকু আসবে, সেই টাকা টা যদি জমানো টাকার অঙ্কের চেয়ে বেশি আসে, সেক্ষেত্রে কি করণীয়? যেমন : তিন ভরি স্বর্ণ + ১০০০০৳ জন্য যাকাত যদি ১৯০০০৳ আসে, তাহলে যাকাতের অর্থ টা কিভাবে দিবে আমার স্ত্রী ? দয়া করে শরিয়ত মোতাবেক, একটু বুঝিয়ে দিবেন জাযাকাল্লাহু খাইর
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম (1) জ্বী হ্যাঁ, আপনার স্ত্রীর উপর যাকাত ফরজ। টাকা পুরো বছর থাকা জরুরী নয়। বরং বছরের শেষে যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন টাকা থাকে, তাহলে স্বর্ণের সাথে মিলিয়ে রুপার নিসাব অনুযায়ী যাকাত ফরজ হবে। এখানেও ফরজ হয়েছে। সাড়ে বায়ান্ন তোলার রুপার দাম অনুযায়ী। (২) যাকাত ফরজ হয় যাকাতযোগ্য সম্পদে ২.৫% হারে। এখন যাকাত যদি উপহারের সম্পদের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে তার স্বামী তারপক্ষষ থেকে আদায় করে দিবে। অথবা যে কোনভাবে যাকাত আদায় করবে। এটা ফরজ। সম্পদ বিক্রি করে হলেও।। দলীল: وتجب علی الفور عند تمام الحول حتی یأثم بتأخیرہ من غیر عذر۔ (الفتاویٰ الہندیۃ : ۱؍۱۷۰) ولو لم یکن عندہ مال فأراد أن یستقرض لأداء الزکاۃ إن کان أکبر رأیہ أنہ یقدر علی قضائہ، فالأفضل الاستقراض، وإلا فلا۔ (شامي : ۳؍۱۹۲)فقط واللہ تعالٰی اعلم
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ কারো আকীকা না করলে সেই ব্যক্তি কি কুরবানী করতে পারবে? নাকি আকীকা আগে আকীকা করতে হবে।
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম আক্বিকা স্বতন্ত্র ইবাদাত, কুরবানি স্বতন্ত্র ইবাদাত। একটার সাথে আরেকটার কোন সম্পর্ক নাই। সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন। তাই একটা না করলে আরেকটা হবে না বা করা যাবে না, এমন ধারণা ভুল। তবে মনে রাখতে হবে: আক্বিকা দেয়া মুস্তাহাব তথা করলে সাওয়াব আছে, না করলে গুনাহ নাই। কিন্তু কুরবানি ওয়াজিব। নেসাব পরিমাণ মাল থাকলে অবশ্যই কুরবানি করতে হবে,নতুবা গুনাহগার হবে। দলিলসমূহ : المستدرک للحاکم میں ہے: "عن عطاء، عن أم كرز، وأبي كرز، قالا: نذرت امرأة من آل عبد الرحمن بن أبي بكر إن ولدت امرأة عبد الرحمن نحرنا جزوراً، فقالت عائشة رضي الله عنها: «لا بل السنة أفضل عن الغلام شاتان مكافئتان، وعن الجارية شاة تقطع جدولاً، ولايكسر لها عظم فيأكل ويطعم ويتصدق، وليكن ذاك يوم السابع، فإن لم يكن ففي أربعة عشر، فإن لم يكن ففي إحدى وعشرين». هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه". (کتاب الذبائح، ج:4، ص:266، رقم الحدیث:7595، ط:دار الكتب العلمية – بيروت) اعلاء السنن میں ہے: "أنها إن لم تذبح في السابع ذبحت في الرابع عشر، وإلا ففي الحادي والعشرین، ثم هکذا في الأسابیع". (باب العقیقه، ج:17، ص:117، ط:ادارۃ القرآن والعلوم الاسلامیه) الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (6/ 320): "(ولو) (تركت التضحية ومضت أيامها) (تصدق بها حية ناذر) فاعل تصدق (لمعينة) ولو فقيرا. (قوله: ولو تركت التضحية إلخ) شروع في بيان قضاء الأضحية إذا فاتت عن وقتها فإنها مضمونة بالقضاء في الجملة، كما في البدائع. (قوله: ومضت أيامها إلخ) قيد به لما في النهاية: إذا وجبت بإيجابه صريحا أو بالشراء لها، فإن تصدق بعينها في أيامها فعليه مثلها مكانها، لأن الواجب عليه الإراقة وإنما ينتقل إلى الصدقة إذا وقع اليأس عن التضحية بمضي أيامها، وإن لم يشتر مثلها حتى مضت أيامها تصدق بقيمتها، لأن الإراقة إنما عرفت قربة في زمان مخصوص ولا تجزيه الصدقة الأولى عما يلزمه بعد لأنها قبل سبب الوجوب اهـ (قوله: تصدق بها حية) لوقوع اليأس عن التقرب بالإراقة، وإن تصدق بقيمتها أجزأه أيضا لأن الواجب هنا التصدق بعينها وهذا مثله فيما هو المقصود اهـ ذخيرة." کفایت المفتی میں ہے: " قربانی کے جانور یا گائے کے ساتویں حصہ کی قیمت خیرات کرے۔" (جدید ۸: ۲۱۲، ط: دار الاشاعت ) فقط واللہ اعلم
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ এই ধরণের ক্যলিগ্রাফি শালগুলো পরিধাণ করা যাবে কিনা? বিদ্র: এইগুলো আরবী হরুফ।
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম যদি কুরআনের কোন আয়াত বা হাদীস না লেখা থাকে, তাহলে ওটা পরিধান করে টয়লেটে যাওয়া যাবে। অবশ্য এধরণের আরবি ক্যালিগ্রাফি শাল পরিধান করে টয়লেটে না যাওয়াটাই অধিক উত্তম। দলিলসমূহ: حاشیۃ الطحطاوی علی مراقی الفلاح میں ہے: "ويكره الدخول للخلاء ومعه شيء مكتوب فيه اسم الله أو قرآن" لما روى أبو داود والترمذي عن أنس قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل الخلاء نزع خاتمه أي لأن نقشه محمد رسول الله قال الطيبي فيه دليل على وجوب تنحية المستنجي اسم الله تعالى واسم رسوله والقرآن اهـ وقال الأبهري وكذا سائر الرسل اهـ وقال ابن حجر استفيد منه أنه يندب لمريد التبرز أن ينحى كل ما عليه معظم من اسم الله تعالى أو نبي أو ملك فإن خالف كره لترك التعظيم اهـ وهو الموافق لمذهبنا." (كتاب الطهارة، ص:54،ط:دار الكتب العلمية) فتاوی شامی میں ہے: "فلو نقش اسمه تعالى أو اسم نبيه صلى الله عليه وسلم استحب أن يجعل الفص في كمه إذا دخل الخلاء." (كتاب الحظر والإباحة،فصل في اللبس،ج:6،ص:361،ط:سعيد) الفقه الإسلامي وأدلته للشیخ وهبة الزحیلي میں ہے: "ألا يحمل مكتوباً ذكر اسم الله عليه، أو كل اسم معظم كالملائكة، والعزيز والكريم ومحمد وأحمد؛ لما روى أنس: «أن النبي صلّى الله عليه وسلم كان إذا دخل الخلاء وضع خاتمه» وكان فيه: محمد رسول الله. فإن احتفظ به، واحترز عليه من السقوط فلا بأس." (الباب الأول: الطہارات، آداب قضاء الحاجة،ج:1،ص:355،ط:دار الفكر)
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ একটি ইবাদত খানায় প্রতিষ্ঠা কালিন সময় থেকে শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো হতো। করোনার সময় পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে সে মসজিদে জুমার নামাজ চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে যদি জুমার নামাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় আগের মতই শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয় তাহলে কি কোন সমস্যা হবে? মসজিদের জায়গাটি ওয়াকফো করে দেওয়া হয়নি, এখন কি জুমার নামাজ বন্ধ করা যাবে?
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম সাময়ীক সময়ের জন্য জুমআহর নামাজ চালু করা এবং মসজিদের জন্য জায়গা ওয়াকফ না করা : দুটি বিষয়ই যেহেতু আছে, তাই এটি শরয়ী মসজিদ নয়। অতএব প্রয়োজনে জুমআহর নামাজ বন্ধ করে দিলে শরয়ী দৃষ্টিকোন থেকে কোন সমস্যা নাই। দলিল সমূহ: فتاوی شامی میں ہے: "(قوله: وشرطه شرط سائر التبرعات) أفاد أن الواقف لا بد أن يكون مالكه وقت الوقف ملكا باتا" (کتاب الوقف ،ج:4 ،ص:340، ط:سعید) فتاوی دارالعلوم دیوبند میں ہے: سوال۔: (272) جس زمین میں مسجدہواس زمین کا وقف ہونا ضروری ہے یانہیں؟ الجواب۔:مسجدہونے کے لیے زمین کا وقف ہونا ضروری ہے،اگر زمین وقف نہ ہومسجدشرعی نہیں ہوتی۔فقط (کتاب الوقف ج:13،ص274،ط:دارالاشاعت) وفیہ ایضاً: سوال۔:(287) ایک شخص کافر سے زمین کرایہ پر لے کر مسجد بناتا ہے،اور وہ کافر کہتاہے کہ اٹھارہ بیس سال تک مسجد قائم رکھوں گا ،اس کے بعد مجھ کو اختیارہوگا جو چاہوں سو کروں، اس زمین میں مسجد بنانا جائز ہے یا نہیں؟ الجواب۔:اس صورت میں وہ مسجد نہ ہوگی کیونکہ مسجدہونے کےلیےہمیشہ کو زمین مسجد کا وقف للہ ہونا شرط ہے،اور جو جگہ مسجد ہوتی ہے وہ ہمیشہ کو مسجدہوتی ہے۔فقط (کتاب الوقف ج:13،ص282،ط:دارالاشاعت)
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ মা এর পছন্দনীয় প্রতীকে ভোট না দিলে যদি মা মন খারাপ করে বা বদদোয়া দেয় এবং পুরো পরিবার ই যদি একঘরে করে, এই পরিস্থিতে ভোট দেয়ার বিধান কি হবে। বি.দ্র: আমি কোন দলকেই ভোট দিতে রাজি না।
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। প্রচলিত পদ্ধিতে ভোটদানে অংশগ্রহণ করা বৈধ নয়। প্রচলিত নির্বাচন এবং ভোট পদ্ধতি সম্পূর্ণ শরীয়াহ বিবর্জিত কাজ এবং কখনো কখনো তা কুফর পর্যন্ত পৌছে যেতে পারে। অতএব এমন কাজে অংশগ্রহণ করা বৈধ নয়। মনে রাখতে হবে : নিশ্চই পিতা-মাতার খিদমত করা ফরজ। পাশাপাশি তাদের কথা মান্য করা জরুরী। তবে তাদের সেসব কথা মান্য করতে হবে বা করা যাবে,যেটা শরীয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক নয়। এখন তাদের মত, তাদের পছন্দ, তাদের দাবী যদি এমন কিছু হয়, যা শরীয়তের গলায় ছুরি চালায়: তাহলে তাদের এমন দাবী নিঃসন্দেহে অবান্তর এবং তা মান্য করার কোন প্রশ্নই উঠে না। সীরাতে মুস্তাকিমের পথে চলতে গেলে পুরো পৃথিবী যদি নিজের বিপক্ষে চলে যায় তবুও তা মেনে নিতে হবে, কিন্তু শরীয়াহ সবার উপরে থাকবে। দলিল সমূহ: قال اللہ تعالی: وَاِنْ جَاهَدَاكَ عَلٰٓى اَنْ تُشْرِكَ بِىْ مَا لَيْسَ لَكَ بِهٖ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِى الـدُّنْيَا مَعْرُوْفًا ۖ وَاتَّبِــعْ سَبِيْلَ مَنْ اَنَابَ اِلَـىَّ ۚ ثُـمَّ اِلَـىَّ مَرْجِعُكُمْ فَاُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُـمْ تَعْمَلُوْنَ الآیۃ (لقمان ۔ آیت : 15 ) و فی عمدۃ القاری: و قال الملھب : غرض البخاری من ھذا الباب ان یبین صفۃ الھجران الجائز و ان ذلک متنوع علی قدر الاجرام، فمن کان جرمہ کثیرا فینبغی ھجرانہ و اجتنابہ و ترک مکالمتہ، کما جاء فی کعب بن مالک و صاحبیہ الخ (باب:مایجوز من الھجران لمن عصی۔ج: 22 ۔ص: 225 ) پنجم:… آپ نے جو لکھا ہے کہ: “اگر والدین کہیں کہ ....اپنی اولاد کو مار ڈالو تو ...اولاد کو مار ڈالنا حرام اور گناہِ کبیرہ ہے، اور میں لکھ چکا ہوں کہ ناجائز کام میں والدین کی اطاعت جائز نہیں...!"۔ (آپ کے مسائل اور ان کا حل 8/558) واللہ تعالی اعلم بالصواب
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ কোন মসজিদের ইমাম খেয়ানতে লিপ্ত, এমতবস্থায় তার পিছে নামাজ না পড়ে বাসায় পড়া যাবে? অথবা কোন মসজিদের পাশে মাজারে শিরক হয়, মসজিদ থেকে নিষেধ করা হয় না, এমন মসজিদে নামাজ পড়া যাবে?
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম অবশ্যই জামাতে মসজিদেই নামাজ পড়বেন। এসবের কারণে মসজিদে নামাজ পড়ার কোন প্রতিবন্ধকতা নাই। এটাও শয়তানের একটা কৌশল, মানুষকে রব থেকে দুরে রাখার জন্য। বিশেষ করে এরমধ্যে তৃতীয় মসজিদে নামাজ পড়তে কোন প্রকার বাধা নাই। তাই অবশ্যই মসজিদে যেয়ে নামাজ পড়বেন জামাতে। দলীল সমূহ: مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح (3/ 865): "(وإمام قوم) أي: الإمامة الكبرى، أو إمامة الصلاة (وهم له) : وفي نسخة: لها، أي الإمامة (كارهون) أي: لمعنى مذموم في الشرع، وإن كرهوا لخلاف ذلك، فالعيب عليهم ولا كراهة، قال ابن الملك: أي كارهون لبدعته أو فسقه أو جهله، أما إذا كان بينه وبينهم كراهة وعداوة بسبب أمر دنيوي، فلا يكون له هذا الحكم. في شرح السنة قيل: المراد إمام ظالم، وأما من أقام السنة فاللوم على من كرهه، وقيل: هو إمام الصلاة وليس من أهلها، فيتغلب فإن كان مستحقاً لها فاللوم على من كرهه، قال أحمد: إذا كرهه واحد أو اثنان أو ثلاثة، فله أن يصلي بهم حتى يكرهه أكثر الجماعة". وفيه أيضاً (3/ 866): "(من تقدم) أي للإمامة الصغرى أو الكبرى (قوماً) : وهو في الأصل مصدر قام فوصف به، ثم غلب على الرجال (وهم له كارهون) أي لمذموم شرعي، أما إذا كرهه البعض فالعبرة بالعالم ولو انفرد، وقيل: العبرة بالأكثر، ورجحه ابن حجر، ولعله محمول على أكثر العلماء إذا وجدوا، وإلا فلا عبرة بكثرة الجاهلين، قال تعالى: ﴿وَلٰكِنَّ اَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ﴾ [الأنعام: 37]" . الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (1/ 559): "(ولو أم قوماً وهم له كارهون، إن) الكراهة (لفساد فيه أو لأنهم أحق بالإمامة منه كره) له ذلك تحريماً؛ لحديث أبي داود: «لا يقبل الله صلاة من تقدم قوماً وهم له كارهون». (وإن هو أحق لا)، والكراهة عليهم". الفتاوى الهندية (1/ 87): "رجل أم قوماً وهم له كارهون إن كانت الكراهة لفساد فيه أو لأنهم أحق بالإمامة يكره له ذلك، وإن كان هو أحق بالإمامة لا يكره. هكذا في المحيط".فقط واللہ اعلم
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। আমার স্ত্রীর সন্তান প্রসবের পর বিশদিন রক্ত গেছে এরপর বিশদিন শুকনা ছিল আর রক্ত যায়নি আর যখন চল্লিশ দিন পূর্ণ হইছে তখন গোসল করছে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্য গোসলের পর থেকে আবার রক্ত যাচ্ছে এখন করণীয় কি কুর আন হাদিস কি বলে
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম বাচ্চা প্রসবের পর থেকে মহিলাদের যে রক্ত বের হয় সেটাকে বলা হয় নেফাস। শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে নেফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা হচ্ছে ৪০ দিন। ৪০ দিনের ঊর্ধ্বে কোনভাবে নিফাসের রক্ত বের হয় না। যদি বের হয় তাহলে সেটাকে নেফাস বলা হয় না, বরং সেটাকে ইস্তেহাযা তথা অসুস্থতা বলা হয়। যেহেতু আপনার স্ত্রীর মোটামুটি ৪০ দিন পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। ৪০ দিন পরেই এখন আবার নতুন করে রক্ত বের হচ্ছে, তাহলে এটি ইস্তেহাযা। আর ইস্তেহাযা অবস্থায় নামাজ ফরজ থাকে। আর ইস্তেহাযা বিধান হলো,যে ইস্তেহাযার দিনগুলোতে নামায,রোজা,কুরআন তেলাওয়াত এবং অন্যান্য ইবাদত সমূহ পালন করতে হবে। আর ইস্তেহাযাগ্রস্থ নারী প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তের জন্য উযু করবে এবং ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত সে উযু দ্বারা নামায,কুরআন তেলাওয়াত,তাওয়াফ ইত্যাদি আদায় করবে। তবে শর্ত হলো উযু ভঙ্গকারী অন্য কোনো কারণ পেশ হতে পারবে না। আর নামাযের ওয়াক্ত শেষ হতেই তার উযুও শেষ হয়ে যাবে। এবং পরবর্তী নামাযের জন্য পুনরাই উযু করা জরুরি। আর যদি উল্লেখিত নারীর ইস্তেহাযার রক্ত ধারাবাহিক ভাবে আসতে থাকে এবং এতটুকু সময়ের জন্যও বন্ধ না হয় যাতে পবিত্র-পরিচ্ছন্ন হয়ে ফরজ নামায আদায় করতে পারে তাহলে সে মহিলা মাজুর [তথা অপারগ] এর হুকুমে গণ্য হবে। আর মাজুরের হুকুম হলো যে,মাজুর ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্ত আসার সাথে সাথেই নতুন উযু করবে এবং এ উযু দ্বারা পরবর্তী ওয়াক্ত পর্যন্ত ফরজ,নফল নামায যে পরিমাণ ইচ্ছা আদায় করতে পারবে এবং রোজা রাখা সহ কোরআনে কারীমও তেলাওয়াত করতে পারবে। দলিল সমূহ: عن أم سلمة رضي اللّٰه عنها قالت: کانت النفساء تقعد علی عهد رسول اللّٰه صلی اللّٰه علیه وسلم أربعین یوماً". (شامی بیروت ۱؍۴۳۲،) سنن دارمی "أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: قَالَ سُفْيَانُ: الطُّهْرُ خَمْس عَشْرَةَ واكثره اربعون يوما والزائد عليه استحاضة لحديث ام سلمة ان النبي عليه السلام وقت للنفساء اربعين يوما وهو حجة على الشافعي في اعتبار الستين، ولو جاوز الدم الاربعين وكانت ولدت قبل ذلك ولها عادة في النفاس ردت الى ايام عادتها لما بينا في الحيض وان لم تكن لها عادة فابتداء نفاسها اربعون يوما لانه امكن جعله نفاسا. الفتاوی الھندیة: (39/1، ط: دار الفکر) (ودم الاستحاضة) كالرعاف الدائم لا يمنع الصلاة ولا الصوم ولا الوطء. كذا في الهداية
উত্তর দিয়েছেনঃ উসামা রউফ
৬ জানুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম, আল্লাহ, রাসুল (সা:) সম্পর্কে অনেক সময় শয়তানের কুমন্ত্রণায় অন্তরে খারাপ চিন্তা আসে, এর ফলে কি ঈমান চলে যাবে বা ঈমানের ক্ষতি হবে? এ ধরণের চিন্তা না আসার জন্য কি করতে পারি, যদিও সাথে সাথে আয়াতুল কুরসী, ইস্তিগফার পড়ি।
উত্তরঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম শরীয়াহর কোনো বিষয়ে সংশয় হলে ইস্তিগফার করে নিতে হবে এবং সংশয় দূর করতে হবে। প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রেষ্ঠ মানব। আল্লাহ তায়ালার নির্বাচিত ব্যক্তি। তাঁর কোনো খুঁত নেই। তবে তাঁর ব্যাপারে শয়তান সংশয় সৃষ্টি করতে পারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে কোনো সংশয় সৃষ্টি হলে ইস্তিগফার করে নিন। এবং সংশয় দূর করুন। কেবল মনে আসার দ্বারা ইমান চলে যাবে না।
উত্তর দিয়েছেনঃ Hm Sulayman
৬ জানুয়ারী, ২০২৬
প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম ওযুর পর যে শাহদাহ পাঠ করে বা ঈমান নিয়ে আশংকা হলে যখন শাহাদাহ পাঠ করে নেয়া হয় তখন কি মনে মনে এ নিয়ত থাকতে হবে যে তাগুত কে বর্জন করলাম?
উত্তরঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ মুলত তা-গু*ত বর্জনের জন্যই। অজুর সময়ে পাঠ করলে অন্তরে ঐ নিয়ত উপস্থিত করা জরুরী নয়। স্বাভাবিকভাবে পড়লেও হবে। তবে ঈমান নবায়নের জন্য এমন নিয়ত অন্তরে থাকা জরুরী।
প্রশ্ন-উত্তর এর বিষয়সমূহ
সাম্প্রতিক প্রবন্ধ
Hm Sulayman - ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
Hm Sulayman - ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
Hm Sulayman - ১১ জুন, ২০২৫
Hm Sulayman - ২৭ জুন, ২০২৫
Hm Sulayman - ১১ জুন, ২০২৫
© ২০২৬ শরয়ী সমাধান - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
