Logoশরয়ী সমাধান
Cover image

প্রবন্ধ

মাজহাব কি, মাজহাব মানা জরুরী কেন, কোন মাজহাব মানব

Hm Sulayman

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

Share Copy Link
প্রসঙ্গঃ

মাযহাব কাকে বলে কেন মানতে হবে!

মাজহাবেরর সরল অর্থ হচ্ছে : পথ, পন্থা, পদ্ধতি। পরিভাষায় : দ্বীন মেনে চলার সঠিক তথা অনুঃসৃত পন্থাকে মাজহাব বলে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি সাহাবাদের দ্বীন শিখিয়েছেন। সাহাবাগন পরস্পর একে অন্যের থেকে শিখেছেন, আলোচনা করেছেন। সাহাবাদের থেকে তাবেয়ীগন শিখেছেন, তাবেয়ীদের থেকে তাবে তাবেয়ীগন শিখেছেন।

নবীর যুগ থেকে যত দুরত্ব হয়েছে, যামানা গড়িয়েছে, ততই নিশ্চিন্তে দ্বীনের বিধান মেনে চলা, অন্ধভাবে কারোর কথা মেনে চলার মত অবস্থা নষ্ট হয়েছে। তাছাড়া সাহাবাগন সরাসরি নবী থেকে বুঝতেন। দ্বীনের এই গভীর বুঝ জনসাধারণের জন্য আয়ত্ব করা নিশ্চিতভাবেই অসম্ভব।

কিন্তু এই উম্মতকে হেফাজতের জন্য আল্লাহ তাআলা কিছু কিছু এমন ব্যক্তিকে কবুল করেছেন,যাদের গোট জীবন ব্যায় হয়েছে কুরআন হাদীস সঠিকভাবে বোঝার জন্য। যারা নিজেদের জীবন কুরবান করেছেন এর পিছনে। যারা সঠিক ঈলম অর্জনের জন্য দেশ থেকে দেশে ছুটে চলেছেন। অতঃপর কুরআন হাদীসের বিষয়ে পাণ্ডিত্য লাভ করেছেন। কুরআন এবং হাদীসকে সামনে রেখে তারা কিছু মুলনীতি তৈরী করেছেন। সেই আলোকে যেই মাসআলা সরাসরি কুরআনে নেই, সেগুলোকে তারা সেই মুলনীতির সূত্র ধরে সমাধান দিয়েছেন।

তারাই হলেন ইমাম, তারাই হলেন মুজতাহিদ। তারাই দ্বীনের রক্ষক। যেহেতু গোটা শরীয়তের বুঝ তাদের আল্লাহ দিয়েছেন, যেহেতু শরীয়তের ব্যাপারে তাদের পাণ্ডিত্য অনস্বীকার্য, তাই তারা দ্বীন মানার ক্ষেত্রে অনুঃসৃত। সময়ের পরিক্রমায় সেই ইমামদের, সেই মুজতাহিদদের সবার মুলনীতি, সবার নিয়মগুলি সংরক্ষিত থাকেনি, মাত্র চারজন ইমাম ছাড়া। তারা হলেন ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ,ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ,ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ,ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ।

উনারা উনাদের অঞ্চলের মানুষদের সমাধান দিয়েছেন। তারা যেই উসুলের আলোকে সমাধান দিয়েছেন, সেগুলাই ভিন্ন ভিন্ন মাজহাব বা পন্থা। এখন যিনি শরীয়তের নুন্যতম কোন বুঝ রাখেন না, যিনি হাদীস, কুরআনের আবেদন বুঝতে পারেন না, যিনি জানেন না কোনটা জায়েজ কোনটা নাজায়েজ, তাকে দ্বীনের পথে চলতে হলে অবশ্যই মাজহাব মানতে হবে। কারণ মাজহাবে প্রতিটি মাসআলার দালিলিক সমাধান,আলোচনা আছে।

যেই অঞ্চলে যেই মাজহাব প্রচলিত, যেই মাজহাবের চর্চা, সেই মাজহাব মানতে হবে। এর কারণ হচ্ছে: যে অঞ্চলে যেই মাযহাব প্রচলিত সেখানে সেই মাযহাবের একাধিক আলেমের সন্ধান পাওয়া সম্ভব, এবং সেখানে সে মাজহাবের চর্চা হয়ে থাকে। যার কারণে কোন মাসআলা নিয়ে সমস্যায় পড়লে সমাধান পাওয়াটা সম্ভব। কিন্তু ভিন্ন মাজহাব অনুসরণ করলে তখন তার সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়, পাশাপাশি একে অঞ্চলে একাধিক মাযহাবের চর্চা হলে তখন লোকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। এজন্য যে অঞ্চলে যে মাযহাব প্রচলিত, এখানকার অধিবাসীদের জন্য ওই মাজহাব অনুসরণ করাটাই জরুরী।

Share Copy Link

মন্তব্য

© ২০২৬ শরয়ী সমাধান - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Facebook Group